SUNDORBAN চাঁদনী রাতে এই শান্ত সমুদ্রে হরিণরা আসে জল খেতে।



চাঁদনী রাতে এই শান্ত সমুদ্রে হরিণরা আসে জল খেতে। সমুদ্রের পাড় ধরে এগিয়ে গেলেই মাঝেমাঝে ছোট্ট ছোট্ট পায়ের ছাপ পাওয়া যাবে।প্রথম দর্শনে হঠাৎ করে যেগুলো দেখে মনে হবে কুকুরের পায়ের ছাপ।কিন্তু ভুল ভাঙে ট্যুর গাইডের কথায়।' এগুলো কিন্তু কুকুরের পায়ের ছাপ নয়।হরিণের পায়ের ছাপ।ওই যে পিছনে জঙ্গল দেখছেন, ওখান থেকে হরিণ আসে এখানে জল খেতে।দেখুন পায়ের ছাপগুলো আবার জঙ্গলে ফিরে গেছে।' অবাক হয়েছিলাম আমরা। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্পে এরকম ফুটফুটে চাঁদনী রাতে নাকি জলে পরী নামে, যে পরীকে দেখলে পথ ভুল হয়ে যায়। নাহ, বঙ্গোপসাগরের সেই জলে আমরা পরী দেখতে পাই নি, তবে পথ ভুলতে ইচ্ছে হয়েছিল।মনে হয়েছিল সারা জীবন যদি এই সমুদ্রের পাড়ে কাটিয়ে দিতে পারতাম তাহলে জীবনের আর কোনো চাহিদা থাকত না।মাথার ওপর ফুটফুটে চাঁদের আলো, তার সাথে তারাদের মিটিমিটি, ঘাড় ঘোরালে ঘন জঙ্গল, যে জঙ্গলে দিনের বেলাই আলো প্রবেশ করে না, আর সামনে বিশাল সমুদ্র।পায়ের নীচে বালি।ডিসেম্বরের শীত এখানে মৃদু, নরম।সমুদ্রের জন্যই।খালি পায়ে বালি ধরে হেটে গেলে পায়ের নীচটা হাল্কা শীতল আবেশে জড়িয়ে আসে।
       হেবলি ঘাটি।ভিতরকণিকা ফরেস্টের সম্ভবত সব থেকে রহস্যময় স্থান।এমনিতে পুরো ভিতরকণিকা ফরেস্টটাই মনে হয় রহস্যময়।তিনদিন আগে যেদিন ভদ্রক থেকে ষাট কিলোমিটার দূরে চান্দবালি থেকে লঞ্চে উঠেছিলাম তখনও বুঝতে পারি নি উড়িষ্যার সাতকোশিয়া ফরেস্ট রেঞ্জের ভিতরকণিকা এতটা সৌন্দর্য নিয়ে আমাদের সামনে ধরা দেবে।
   রাত সাড়ে তিনটেয় ভদ্রক স্টেশনে নেমে ঠান্ডার মধ্যে কাঁপতে ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করে ভোরবেলা চান্দবালির জন্য বাসে উঠেছিলাম।সকালে ব্রেকফাস্ট করে লঞ্চে চেপে বসার পর লঞ্চটা একটু এগোতেই দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছিল।ঘাটের দুদিকের মানুষ ঘর বাড়ি বদলে গাছপালার আধিক্য ঘটে।বুঝেছিলাম আস্তে আস্তে জঙ্গলের মধ্যে প্রবেশ করছি।ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সারা পৃথিবীতেই একরকম দেখতে হয়।কাজেই দু পাড়ের দৃশ্য আমাদের সুন্দরবনের মতই অনেকটা।তবে সুন্দরবনের সাথে পার্থক্য যেটা সেটা বুঝলাম আরেকটু পর।হঠাৎ দেখি দূরে কালো মতন কি একটা নড়ে উঠল।ট্যুর এজেন্ট বলল ওটা কুমির।নাহ, কুমিরে এমনি কোনো চমক নেই।সুন্দরবনের পথেও কুমির দেখা যায়, চমক যেটা সেটা ছিল রাস্তায় কুকুর বেড়ালের মত কুমিরের আধিক্য।লঞ্চের লোকটা বলল ভাগ্য ভালো থাকলে 'কালিয়া'র দেখা পেয়ে যেতে পারেন।'কালিয়া' হচ্ছে ২৪ ফুট লম্বা এশিয়ার সব থেকে বড় কুমির।



  তা ভাগ্য আমাদের ভালোই ছিল।হঠাৎ লঞ্চের লোকটা চেচিয়ে বলল ওই দেখুন ওই দেখুন।আমরা ওঁর আঙুলের নির্দেশ অনুযায়ী তাকিয়ে দেখলাম ডমরুধরের গল্পে যে কুমিরের কথা আছে যে মেছুনিকে গিলে খেয়েছিল, মোটামুটি তারই এক ছোট সংস্করণ শুয়ে শুয়ে রোদ পোহাচ্ছে।আমাদের লঞ্চের আওয়াজকে যেন পাত্তাই দিল না।নিজের মত করে রাজার হালে শুয়ে রয়েছে 'কালিয়া'।পরে কলকাতায় ফিরে এসে অনেকদিন আমার পঞ্চমবর্ষীয়া কন্যাকে কালিয়া কুমিরের গল্প বলে খাওয়াতে হয়েছে।
    তো যাই হোক, কালিয়া দর্শন করে মাঝখানে একটা পাখিরালয়ে দুপুরের লাঞ্চ সেরে আমরা পৌঁছেছিলাম ডাঙ্গমল।এটা ফরেস্টের একদম ভেতরে।লঞ্চ জেটিতে লাগানো থাকবে আর মালপত্র টেনে নিয়ে আসতে হবে প্রায় এক কিলোমিটার।তারপর উড়িষ্যার ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের বাংলো।আসার পথে ওই এক কিলোমিটারের জন্য অন্য চমক অপেক্ষা করছিল। সেটা পেয়েছিলাম বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যের পথে।সেই চমকে পরে আসছি।
    মোটামুটি আড়াইটে পৌনে তিনটে নাগাদ বাংলোও পৌঁছে হাত পা ধুয়ে বা স্নান করে ফ্রেশ হওয়ার পালা।ফ্রেশ হওয়ার পরই ট্যুর গাইড আদিত্য আমাদের নিয়ে চলল আবার লঞ্চের দিকে।কোথায় একটা নিয়ে যাবে।তো সেটা হচ্ছে একটা ওয়াচ টাওয়ার।পাখী দেখা যায় নাকি অনেক।পাখী দেখলামও কিছু।তারপর আবার লঞ্চে করে বাংলোও ফেরার পালা।
    ডাঙ্গমলের ঘাটে নামার পর আমাদের সবাইকে মুখে আঙুল দিয়ে একদম চুপ করে পুরো রাস্তাটা হেটে যেতে বলল।কেন জিজ্ঞাসা করাতে কোনো জবাব নেই।আবার সেই মুখে আঙুল।তো ঠিক আছে, মুখে আঙুল দিয়েই নিঃশব্দে এগিয়ে চললাম।কিছুটা এগোতেই দেখলাম যে চমকের কথা বলেছিলাম, সেই চমক। রাস্তার পাশে বাঁদিকে প্রথমে দেখলাম কি একটা জ্বলজ্বল করছে।ভালো করে তাকাতেই দেখলাম হরিণ।এক আধটা নয়, প্রায় গোটা বিশেক কি তারও বেশি।ছড়িয়ে ছিটিয়ে গাছের পাতা খাচ্ছে।লোকজন আসা যাওয়া করছে তাতে কোনো হেলদোল নেই।একবার ঘাড় তুলে তাকিয়ে আবার নিজের খাবারে মনোনিবেশ।শুধু বেশি কাছে উৎসাহী হয়ে চলে গেলেই মুশকিল।তখন দৌড় মারবে।হাতের ক্যামেরাটা বাগিয়ে ফ্ল্যাশ অফ করে বেশ কয়েকটা ছবি তুললাম।একদম দশ হাত দূরত্বের মধ্যে থেকে।ওরা এই জায়গায় মানুষের আনাগোনায় একদম অভ্যস্ত।তবে তখনই শুনলাম জায়গাটা জঙ্গলের থেকে আলাদা নয়।একদম জঙ্গলের মধ্যেই এই বাংলোগুলো।শুধু পিছনে কাঁটাতার দিয়ে বাউন্ডারি করা।
     সন্ধেবেলা চা পকোড়া সহযোগে টিফিনের পর রাত নেমে এসেছিল জঙ্গলের মধ্যে।জঙ্গলের একটা নিজস্ব গন্ধ থাকে। আর থাকে একটা নিজস্ব নৈশব্দ।আমাদের বেশি চ্যাচামেচি করা বারণ ছিল।স্তব্ধ হয়ে শুধু উপভোগ করেছিলাম জঙ্গলের নৈশব্দকে।বাংলো থেকে আসেপাশে তাকালে ঘুটঘুটে অন্ধকার।চোখে কিছু দেখা যায় না।শুধু তারই মাঝে বহু দূর থেকে অদ্ভুত অদ্ভুত আওয়াজ ভেসে আসছে।সামনেই হয়ত সরসর করে কিছু একটা চলে যাওয়ার শব্দ।মাঝেমাঝে হাওয়া খেলে যাওয়ার ফলে পাতার আওয়াজ।এগুলোই তো জঙ্গলের নিজস্ব, একদম নিজস্ব শব্দ।এই কোলাহল শহরের ছাপিয়ে উঠে আসা আদিম প্রকৃতির কোলাহল।সৃষ্টির প্রাক মুহুর্তে যে কোলাহল ছিল, হয়ত এই কোলাহল তারই অবশেষ।
    হঠাৎ করে সেই বন্য নিস্তব্ধতাকে খানখান করে উঠে এলো এক অপার্থিব আওয়াজ।বাংলোগুলোর একেকটাতে দুটো করে বড় বড় ঘর।আমাদের মোট চারটে ঘর ছিল।মানে দুটো বাংলো নেওয়া হয়েছিল।যেটাতে আমি আমার মিসেস আর মেয়ে ছিল আমরা তার পাশের বাংলোর বারান্দায় বসে আড্ডা মারছিলাম।সেই আওয়াজে রীতিমত ভয় লেগে গেছিল।সাথে আদিত্যও ছিল।ও বলল বুনো শুয়োরের ডাক।জঙ্গলের গভীরে থাকে দলবেধে। সামনে কাউকে পেলে ছিন্নভিন্ন করে রেখে দেয়। গলার ডাকও সেরকম বীভৎস।
    জঙ্গলের সব থেকে নিরীহ প্রাণি মনে হয় সজারু। ওরা কারো সাথে পাছে থাকে না।বাংলোর কাছাকাছি খাবার দাবারের গন্ধ পেয়ে চলে এসেছে।একটু দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন কাটাগুলোতে রঙীন।একটু তাড়া দিলেই ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়।
      পরদিন সকালে আবার লঞ্চে করে বেরানো।পাখী আর কুমিরের সমারোহে জলে জলে সময়টা মোটামুটি কেটে গেল।শুধু একটাই দুর্ঘটনা হতে হতে বেঁচে গেছিলাম তা হচ্ছে লঞ্চে ব্রেকফাস্ট করে আমরা যে যার মত লঞ্চেই খাবার জলে হাত ধুইয়ে একটা মিউজিয়ামের জেটিতে নেমে পড়েছি, এদিকে এক বন্ধুর বৌ হাত ধোয়ার জন্য জেটির সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেছে নদীর জলে।সেখানেই হাতটা ধুয়ে পিছন ঘুরেছে আর সাথে সাথে কুমিরের লেজের একটা ঝাপটা।ট্যুর অপারেটার আদিত্য সাথে সাথে চিৎকার করে উঠেছে। কুমিরটা বন্ধুর বৌ এর জলে হাত ধোয়াটা লক্ষ্য করেই ঝাপটা মেরেছে। একটুর জন্য মিস করে গেছে। তা নাহলে জলেই টেনে নিত।
     সেদিনের অভিযান শেষে ফিরে আসার পথে আদিত্যর সাথে কথা হচ্ছিল।বলল, কুমির যদি ধরত তাহলে আমরা ছাড়িয়ে হয়ত আনতাম, আমাদের তিন চারজন লোক রয়েছে লঞ্চের স্টাফ নিয়ে, কিন্তু আমার লাইসেন্সটা চিরকালের মত ক্যানসেল হয়ে যেত।না খেয়ে মরতে হত অথবা অন্য পেশায় যেতে হত।আসলে এইসব অঞ্চলে কুমির নিয়ে আমাদের আলাদা কোনো অনুভূতি হয় না।
     রাতের বেলা আবার সেই জঙ্গলের আদিম প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়া।সেই ঝিঝি পোকার ডাক আর সেই জঙ্গলের নিজস্ব কিছু শব্দ।
     ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের যে বাংলোতে আমরা ছিলাম সেটা আবার ছিল কুমির প্রকল্পের অন্তর্গত।পরদিন সকাল বেলা আমরা দেখলাম কুমিরকে কিভাবে পরিচর্যা করা হয়।ছোট্ট থেকে পরিচর্যা করে করে যখন বড় হয় তখন তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় নদীতে।একদম মানুষের বাচ্চাদের যেভাবে যত্ন নেওয়া হয়, ঠিক সেভাবেই কুমিরের বাচ্চাদের যত্ন নেওয়া হয়।।প্রায় ছ'ইঞ্চি সাইজের একটা তিন মাস বয়সের কুমিরের বাচ্চাকে যখন খাওয়ানোর জন্য তোলা হল, আমরা সবাই সামনে থেকে দেখেছিলাম ওই ছোট বাচ্চাটার মধ্যেও কিরকম তেজ।কেউ মাথায় হাত দিলেই রাগে মুখ থেকে একটা অদ্ভুত আওয়াজ করছে।একটা বে আইনি কাজ অবশ্য আমরা করেছিলাম।যে স্টাফ খাওয়াচ্ছিল বাচ্চাটাকে সেই আমাদের সবার হাতে একবার করে তুলে দিয়েছিল বাচ্চাটাকে।যেটা করা আইনত অপরাধ।নরম অথচ খসখসে চামড়ার ওপর দিয়ে হাত বুলিয়ে আদর করা হয়েছিল বাচ্চাটাকে।
     সেদিনই ছিল আমাদের ডাঙ্গমলে থাকার শেষ দিন।কিছুক্ষণ পরে ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে পড়েছিলাম হেবলি ঘাটির উদ্দেশ্যে।শত শত পাখী কুমির এদের পেরিয়ে লঞ্চ এগিয়ে চলেছিল হেবলি ঘাটির উদ্দেশ্যে।হেবলি ঘাটি জায়গাটার কাছে অনেকগুলো ডেল্টা রয়েছে। একেকটা ডেল্টা হাই সিকিওর জোন।কারণ ওখানে হয় ভারতের ইসরোর গবেষণাগার।ডিফেন্সের কড়া নিরাপত্তায় মোড়া ওই জায়গা থেকেই কৃত্রিম উপগ্রহ বা মিসাইলের উৎক্ষেপনের গবেষণা করা হয়।কাজেই ওখানে খুব বেশি এদিক ওদিক যাওয়ার উপায় নেই। সি বিচেই কাটাতে হবে সময়।অবশ্য ওরকম জঙ্গলে ঘেরা বিচে বসে থাকলে মনে হয় সময় কত অল্প!
   


হেবলি ঘাটির জেটিতে পৌঁছে আবার সেই আগের মত মালপত্র নামানো হল।লঞ্চের ওরা বলে দিল এখান থেকে তিন কিলোমিটার কাদা পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে পায়ে হেটে। কাজেই ভারী ভারী লাগেজ লঞ্চেই রেখে যেতে পারেন, কোনো অসুবিধা নেই, শুধু দরকারী লাগেজ নিয়ে নামুন।সেই মতই আমরা নিজেদের শুধু একরাত কাটানোর মত লাগেজ নিয়ে নেমে এলাম।
   এরপর শুরু বল কাদামাটির রাস্তা দিয়ে হেটে চলা।প্রায় আধঘন্টা হাটাপথ একদম জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে। জঙ্গলের মাঝেই পথ করা, দুপাশের শ্বাসমূল বের হয়ে থাকা ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের মধ্যে দিয়ে চলার পথ।পাশে তাকালেই চোখে পড়ে ঘন জঙ্গল আর মাঝেমাঝেই কোনো প্রাণির চলাফেরা করার আওয়াজ।
      আধঘন্টা বাদে এসে পৌঁছেছিলাম হেবলি ঘাটির সমুদ্রের ধারে।সুদৃশ্য টেন্ট অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য।টেন্টের ভিতরটা একদম একটা ঘরের মত সাজানো গোছানো আর বাইরে একটা গাছতলা ঘিরে বসার জায়গা আড্ডা মারার জন্য।পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় বিকেল হয়ে গেছিল।লাঞ্চ করে নিয়েছিলাম জলে থাকতেই।পাতলা কাকড়ার ঝোল আর ভাত।নদীর মধ্যে চলন্ত লঞ্চে বসে দুপাশেএ জঙ্গল দেখতে দেখতে খাওয়া এক অনবদ্য অনুভূতি।টেন্টে ঢুকে সবাই যে যার মত ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নিয়ে চলে এলো গাছতলায় আড্ডার জায়গায়।সমুদ্রের ধারে কেউ কেউ অবশ্য চলে গেছিল, তবে স্নানটা তোলা ছিল পরের দিনের জন্য।গল্পে আড্ডায় রাত হতে খাওয়ার পর কয়েকজন মিলে চলে এলাম সমুদ্রের ধারে।সেই ফুটফুটে জ্যোৎস্নায় সমুদ্রের ধারে, যেখান থেকে লেখা শুরু করেছিলাম।
      শান্ত সমুদ্রেরও যে বন্য রূপ হতে পারে তা হেবলি ঘাটির ওই বিচে জ্যোৎস্নার আলোয় না দেখলে বোঝা সম্ভব নয়। সেদিন যেন সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলাম যা ভাষাত বোঝানো সম্ভব নয়।কোনোদিন সামনে থেকে না দেখলে এটা লিখে বোঝানো যাবে না।অসাধারণ মনোমুগ্ধকর এসব কথাগুলো যেন ক্লিশে মনে হবে ওই অভিজ্ঞতার কাছে।
     অনেক রাতে টেন্টে ফিরেও চোখের সামনে সেই শান্ত সমুদ্রেরই বন্য রূপ ভাসছিল যেন।
    পরদিন সকালে উঠে নেমে পড়ল সমুদ্রস্নানে।সকালের সমুদ্র আর রাতের সমুদ্রের মধ্যে যেন আকাশ পাতাল তফাৎ।সকালের সমুদ্রে কোনো রহস্য নেই।শুধু একটু নিরিবিলি মনে হয়, এই যা।রাতের ওই রূপ যারা প্রত্যক্ষ করে নি, তারা অনেক কিছু মিস করেছে।
      এর কিছুক্ষণ পরেই রওনা দিতে হল জেটির উদ্দেশ্যে।খাওয়া দাওয়া আগের দিনের মতই লঞ্চে সারতে হবে কারণ যদি ভাটা এসে যায় তাহলে আর লঞ্চ এগোতে পারবে না।সেই জন্য বিকেল থাকতেই ওরা চেয়েছিল চান্দবালি, মানে আমাদের শুরু জায়গাতে পৌঁছে দিতে।হাই সিকিওর জোনের পাশ দিয়ে আসার সময় একটা খাড়ি চোখে পড়ল যেটা দিয়ে এগোলে নাকি ইসরোর প্রোজেক্ট ফিল্ডে চলে যাওয়া যাবে। মোহনার কাছে সমদ্রের ঢেউ সামলে আমরা যখন চান্দবালি এসে পৌঁছালাম, তখন বেলা কিছুটা বাকি।পিছনে পড়ে রইল জঙ্গল সমুদ্র আর স্মৃতি। বাসে দু ঘন্টা জার্নি করে পৌঁছলাম ভদ্রক।সেখান থেকেই ট্রেনে কলকাতা।


Share on Google Plus

About pronabbiswas30

Hello, I am Pronab Biswas a new Blogger from West Bengal. I have written and developed this site so that students and other learn the all general Knowledge and related many other things in their own Bengali Language.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন